Recent Posts

Pages: [1] 2 3 ... 10
1
Know The World / হাদীস নং ২১
« Last post by ashraful.diss on June 22, 2024, 12:26:43 AM »
হাদীস নং ২১

মাযলুমের বদ দু’আর ভয়াবহতা তো শুনলে। এবার যুলুমের ভয়াবহতা শুনো। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

 الظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

অর্থঃ যুলুম কিয়ামাতের দিন অন্ধকারের রুপ ধারণ করবে। (বুখারী,২৪৪৭;মুসলিম,২৫৭৯)

অন্ধকারে যেমন পথ খুঁজে পাওয়া যায় না, তেমনি কিয়ামাতের দিন জালিমরা (জাহান্নাম থেকে) বাঁচার কোনো পথ পাবে না। দুনিয়াতে মানুষের ওপর করা জুলুম কিয়ামাতের বিভীষিকাময় দিনে জালিমের জন্য গভীর কালো অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে

তাই, আপনারা কখনো কারও সাথে জুলুম করবেন না। অকারণে কাউকে কষ্ট দেবেন না। ঠিক আছে?

চলবে......................................................
2
Patronage / Finest Π‘asual Dating - Verified Women
« Last post by Mahbub Alam on June 21, 2024, 09:57:24 PM »
Casual dating at its finest – join the leading platform for relaxed and fun encounters!
Genuine Damsels
Prime casual Dating
3
Know The World / হাদীস নং ২০
« Last post by ashraful.diss on June 14, 2024, 11:26:03 PM »
হাদীস নং ২০

আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন, বন্ধুরা? ঈদ মোবারক! আজকে আমরা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদীস শিখব। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

اتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ

অর্থঃ মাযলুমের বদ দু’আকে ভয় করো। (বুখারী,২৪৪৮)

মাযলুমের দু’আ আর আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না। আল্লাহ মাযলুমের দু’আ কখনো ফিরিয়ে দেন না। তাই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাযলুমের দু’আকে ভয় করতে বলেছেন,

চলবে............................................................
4
Know The World / হাদীস নং ১৯
« Last post by ashraful.diss on June 13, 2024, 12:26:51 AM »
হাদীস নং ১৯

যেকোনো ইবাদাত করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, সেটি সুন্নাহ সম্মত কি না। সুন্নাহসম্মত না হলে তা যতই ভালো মনে হোক- ইবাদাত হিসেবে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ

অর্থঃ প্রত্যেক বিদ’আত-ই ভ্রষ্টতা। (মুসলিম,৮৬৭;আবূ দাউদ,৪৬০৭;ইবনু মাজাহ;৪২)

বিদ’আত হচ্ছে ওইসব নতুন আবিস্কৃত আমল যা কুর’আন-সুন্নাহতে নেই। তাই, ইবাদাত মনে করে কোনো বিদআতে লিপ্ত হওয়া যাবে না। অন্যথায় সাওয়াবের বদলে গুনাহ হবে।

চলবে..................................................................
5
Know The World / হাদীস নং ১৮
« Last post by ashraful.diss on June 12, 2024, 02:21:51 AM »
হাদীস নং ১৮

আমরা যত বেশি কথা বলি, ভুল তত বেশি হয়। আর ভুল কথার কারণে গুনাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়। কথা কম বললে ভুলও কম হয়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

مَنْ صَمَتَ نَجَا

অর্থঃ যে চুপ থাকে, সে পরিত্রাণ পায়। (তিরমিযি,২৫০১;মুসনাদু আহমাদ,৬৪৮১)

তাই আপনারাও অপ্রয়োজনে কথা বলবেন না। ভালো কথা ব্যতীত কিছু বলবেন না। অন্যথায় চুপ থাকবেন।

চলবে........................................................................
6
Know The World / হাদীস নং ১৭
« Last post by ashraful.diss on June 10, 2024, 10:42:51 PM »
হাদীস নং ১৭

অহেতুক রাগ করা একটি মন্দ স্বভাব। রাগ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

لاَ تَغْضَبْ

অর্থঃ রাগ কোরো না (বুখারী,৬১১৬;তিরমিযি,২০২০)

নবিজির এই অসিয়ত তোমরাও মেনে চলবে। অযথা কারও সাথে রাগ করবে না।

চলবে...............................................................
7

যিলহজ্ব ও যিলহজ্বের প্রথম দশক

আসমান-যমীনের সৃষ্টি অবধি আল্লাহ তাআলা বছরকে বার মাসে বিভক্ত করেছেন। এটি আল্লাহ কতৃর্ক নির্ধারিত। পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে এটিই আল্লাহর নিয়ম। এর মধ্য থেকে আল্লাহ চারটি মাসকে করেছেন সম্মানিত ও মহিমান্বিত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

اِنَّ عِدَّةَ الشُّهُوْرِ عِنْدَ اللهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِيْ كِتٰبِ اللهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ مِنْهَاۤ اَرْبَعَةٌ حُرُمٌ

আল্লাহ যেদিন আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই মাসসমূহের গণনা আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর বিধান মতে বারটি। তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। (সূরা তাওবা (৯) : ৩৬)

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে—

إِنّ الزّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللهُ السّمَوَاتِ وَالأَرْضَ، السّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا، مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ، ثَلاَثٌ مُتَوَالِيَاتٌ: ذُو القَعْدَةِ، وَذُو الحِجّةِ، وَالمُحَرّمُ، وَرَجَبُ مُضَرَ الّذِي بَيْنَ جُمَادَى، وَشَعْبَانَ

নিশ্চয় সময়ের হিসাব যথাস্থানে ফিরে এসেছে, আসমান-যমীনের সৃষ্টির সময় যেমন ছিল (কারণ, আরবরা মাস-বছরের হিসাব কম-বেশি ও আগপিছ করে ফেলেছিল); বার মাসে এক বছর। এর মধ্য থেকে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি মাস ধারাবাহিক— যিলক্বদ, যিলহজ্ব, মুহাররম। আরেকটি হল রজব, যা জুমাদাল আখিরাহ ও শাবানের মাঝের মাস। —সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৬৬২

যিলহজ্ব : সম্মানিত চার মাসের শ্রেষ্ঠ মাস

এ চার মাসের মধ্যে যিলহজ্ব মাসের ফযীলত সবচেয়ে বেশি। কারণ, এ মাসেই আদায় করা হয় ইসলামের অন্যতম প্রধান রোকন ও নিদর্শন হজ্ব এবং অপর নিদর্শন ও মহান আমল কুরবানী। এ মাস আল্লাহর কাছে সম্মানিত। এতে রয়েছে এমন দশক, আল্লাহ তাআলা যার কসম করেছেন। বিদায় হজ্বের ভাষণে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্ব মাসকে শ্রেষ্ঠ মাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন—

أَلَا وَإِنّ أَحْرَمَ الشُّهُورِ شَهْرُكُمْ هَذَا

জেনে রাখো! সবচেয়ে সম্মানিত মাস হল, তোমাদের এ মাস (যিলহজ্ব)।—সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩৯৩১; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১১৭৬২

নেক আমলে অগ্রগামী হওয়ার মাস

আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে বান্দাদের দান করেছেন ফযীলতপূর্ণ বিভিন্ন দিবস—রজনী। বছরের কোনো কোনো মাস, দিন বা রাতকে করেছেন ফযীলতপূর্ণ ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। যাতে এগুলোকে কাজে লাগিয়ে বান্দা ক্ষমা লাভ করতে পারে, নেক আমলে সমৃদ্ধ হতে পারে এবং আল্লাহর প্রিয় হতে পারে। এর মধ্যে যিলহজ্ব মাস অন্যতম প্রধান ফযীলতপূর্ণ মাস। এ মাসের প্রথম দশককে আল্লাহ তাআলা করেছেন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এ দিনগুলোতেই হজ্বের মৌলিক আমল সম্পাদিত হয়। দশ যিলহজ্ব সারা বিশ্বের মুসলিমগণ কুরবানী করেন। এ দিনগুলোর নেক আমল আল্লাহ তাআলার নিকট অধিক প্রিয়। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে—

مَا مِنْ أَيّامٍ الْعَمَلُ الصّالِحُ فِيهَا أَحَبّ إِلَى اللهِ مِنْ هَذِهِ الْأَيّامِ يَعْنِي أَيّامَ الْعَشْرِ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ؟ قَالَ: وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ، إِلّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ

অর্থাৎ আল্লাহর নিকট যিলহজ্বের দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও (এর চেয়ে উত্তম) নয়? তিনি বললেন, না, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে হাঁ, সেই ব্যক্তির জিহাদ এর চেয়ে উত্তম, যে নিজের জান-মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য বের হয়েছে। অতঃপর কোনো কিছু নিয়ে ঘরে ফিরে আসেনি। —সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩৮; সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৬৯

আশারায়ে যিলহজ্ব : আল্লাহ কসম করেছেন যে দশ রাতের

আমরা জেনেছি, যিলহজ্ব মাস আশহুরে হুরুম তথা সম্মানিত চার মাসের অন্যতম প্রধান মাস। আবার এ মাসের মধ্যে প্রথম দশক হল প্রধান। এ দশক এতটাই ফযীলতপূর্ণ ও মহিমান্বিত যে, আল্লাহ তাআলা এ দশ রাতের কসম করেছেন। ইরশাদ হয়েছে—

وَ الْفَجْرِ،  وَ لَيَالٍ عَشْرٍ

শপথ ফযরের, শপথ দশ রাত্রির। —সূরা ফাজর (৮৯) : ১-২

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ও মুজাহিদ রাহ.-সহ অনেক সাহাবী, তাবেঈ ও মুফাসসির বলেন, এখানে ‘দশ রাত্রি’ দ্বারা যিলহজ্বের প্রথম দশ রাতকেই বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৫৩৫)

এ দশককে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন বলা হয়েছে। জাবির রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—

أَفْضَلُ أَيّامِ الدّنْيَا أَيّامُ الْعَشْرِ، عَشْر ذِي الْحِجّةِ، قَالَ: وَلَا مِثْلُهُنّ فِي سَبِيلِ اللهِ؟ قَالَ: لَا مِثْلُهُنّ فِي سَبِيلِ اللهِ، إِلّا رَجُلٌ عَفّرَ وَجْهَهُ فِي التّرَابِ
(قال الهيثمي : إسناده حسن ورجاله ثقات)

দুনিয়ার সর্বোত্তম দিনগুলো হল, যিলহজ্বের দশ দিন। জিজ্ঞাসা করা হল, আল্লাহর রাস্তায়ও কি তার সমতুল্য নেই? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায়ও তার সমতুল্য নেই। তবে ঐ ব্যক্তি, যার চেহারা ধূলিযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ শাহাদাত লাভ করেছে। —মুসনাদে বাযযার, হাদীস ১১২৮; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস ২০১০; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৪/৮

সম্মানিত মাস সম্মানিত দশক (গুনাহের মাধ্যমে এর সম্মান বিনষ্ট না করি)

মুমিন তো আল্লাহর দেওয়া বিভিন্ন সুযোগকে গনীমত মনে করে কাজে লাগায়। এসকল ফযীলতপূর্ণ মওসুমে নেক আমলের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করে তার আমলের খাতা। কিন্তু কখনো কখনো কারও দ্বারা এমন হয়ে যেতে পারে যে, নেক আমলের তো তাওফীক হল না; কিন্তু গুনাহে কলুষিত হল আমলনামা। এমনটি কখনোই কাম্য নয়। এক কবি বড় সুন্দর বলেছেন—

قوت نيکي نداري بد مکن

নেক আমল করতে যদি না-ও পার, গুনাহে লিপ্ত হয়ো না।

নেক আমল যতটুকু করতে পারি-না পারি; গুনাহের মাধ্যমে যেন এ সম্মানিত দিনগুলোর অসম্মান না করি। এর মাধ্যমে তো আমি নিজেকেই অসম্মানিত করছি।
ইবনে রজব হাম্বলী রাহ. ‘লাতাইফুল মাআরিফ’-এ যিলহজ্বের আলোচনায় বলেন—

احذروا المعاصي، فإنها تحرم المغفرة في مواسم الرحمة

রহমতের মওসুমসমূহে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো। কেননা তা ক্ষমা থেকে বঞ্চিত করে। —লাতায়েফুল মাআরেফ, পৃ. ৩৭৯

আর যে আয়াতে আল্লাহ তাআলা চারটি মাসকে সম্মানিত ঘোষণা করেছেন সে আয়াতের শেষে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

فَلَا تَظْلِمُوْا فِيْهِنَّ اَنْفُسَكُمْ

(তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত), সুতরাং এ মাসসমূহে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। —সূরা তাওবা (৯) : ৩৬

আল্লাহর নাফরমানী নিজের উপর সবচেয়ে বড় জুলুম। কারণ, এর ক্ষতি তো নিজের উপরই আপতিত হবে। সুতরাং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এ মাসের প্রথম কাজ, সাথে সাথে নেক আমলেও যত্নবান হওয়া দরকার।

যিকির-তাসবীহে প্রাণবন্ত করি যিলহজ্বের প্রথম দশক

যিকির আল্লাহ তাআলার কাছে অনেক প্রিয় আমল। এ দশকের আমল হিসেবে বিশেষভাবে যিকিরের কথা এসেছে। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—

مَا مِنْ أَيّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ وَلَا أَحَبّ إِلَيْهِ الْعَمَلُ فِيهِنّ مِنْ هَذِهِ الْأَيّامِ الْعَشْرِ، فَأَكْثِرُوا فِيهِنّ مِنَ التّهْلِيلِ وَالتّكْبِيرِ وَالتّحْمِيدِ

আল্লাহ তাআলার নিকট আশারায়ে যিলহজ্বের আমলের চেয়ে অধিক মহৎ এবং অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদু লিল্লাহ পড়। —মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৫৪৪৬; আদদাআওয়াতুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ৫৩৪

এছাড়া যিলহজ্বের এ দশকের বিভিন্ন আমলও প্রাণবন্ত থাকে আল্লাহর যিকিরে। হাজ্বীগণ ইহরাম বাঁধার পর থেকে উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে তালবিয়ার মাধ্যমে স্মরণ করতে থাকেন আল্লাহকে। জামরায় কংকর নিক্ষেপের সময়ও বলেন— আল্লাহু আকবার। সারা বিশ্বের মুসলিমগণ আইয়ামে তাশরীকে ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীকের মাধ্যমে আল্লাহর যিকির করেন। কুরবানীর দিন কুরবানী করার সময় বলেন— বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার। এমনকি হজ্বের আমলসমূহের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—

إِنّمَا جُعِلَ الطّوَافُ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصّفَا وَالْمَرْوَةِ وَرَمْيُ الْجِمَارِ لِإِقَامَةِ ذِكْرِ اللهِ

নিশ্চয়ই বাইতুল্লাহর তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সায়ী এবং জামারাতে কংকর নিক্ষেপের আমল বিধিবদ্ধ করাই হয়েছে আল্লাহর যিকিরের জন্য। —সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৮৮৮; জামে তিরমিযী, হাদীস ৯০২

মোটকথা, যিলহজ্বের এ দিনগুলো যেন প্রাণবন্ত থাকে আল্লাহর যিকিরে।

যিলহজ্ব শুরু হলে নখ-চুল না কাটি (আমারও সাদৃশ্য হোক হাজ্বীদের সাথে)

ইহরাম করার পর হাজ্বী সাহেবদের জন্য নখ-চুল কাটাসহ আরও কিছু বিষয় নিষেধ। কিন্তু যারা হজ্বে যাননি তাদের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে যিলহজ্বের প্রথম দশকে নখ-চুল না কাটার মাধ্যমে অন্যরাও সাদৃশ্য অবলম্বন করতে পারে হাজ্বী সাহেবদের সাথে এবং লাভ করতে পারে বিশেষ ফযীলত। হাদীস শরীফে এ আমলের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে—

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنّ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ قَالَ: إِذَا رَأَيْتُمْ هِلَالَ ذِي الْحِجّةِ، وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ

উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন যিলহজ্বের দশক শুরু হবে তখন তোমাদের মধ্যে যে কুরবানী করবে সে যেন তার চুল নখ না কাটে। —সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯৭৭; জামে তিরমিযী, হাদীস ১৫২৩

এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে ফকীহগণ কুরবানীকারীর জন্য নখ-চুল না কাটাকে মুস্তাহাব বলেছেন। তাই যিলকদ মাসেই চুল-নখ কেটে যিলহজে¦র জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা চাই। যাতে তা বেশি লম্বা হয়ে না যায়, যা সুন্নতের খেলাফ।

আর যে ব্যক্তি কুরবানী করবে না তার জন্য এ হুকুম প্রযোজ্য কি না— এ ব্যাপারে কেউ কেউ বলেছেন, এ হুকুম কেবলমাত্র কুরবানীকারীদের জন্য প্রযোজ্য। তাদের দলীল পূর্বোক্ত হাদীস। আর কেউ কেউ বলেন, কুরবানী যারা করবে না তাদের জন্যও এ আমল রয়েছে। আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত—

 أَنّ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ قَالَ لِرَجُلٍ: أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى عِيدًا جَعَلَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلّ لِهَذِهِ الْأُمّةِ، فَقَالَ الرّجُلُ: أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلّا مَنِيحَةً أُنْثَى أَفَأُضَحِّي بِهَا؟ قَالَ: لَا، وَلَكِنْ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِكَ، وَتُقَلِّمُ أَظْفَارَكَ، وَتَقُصّ شَارِبَكَ، وَتَحْلِقُ عَانَتَكَ، فَذَلِكَ تَمَامُ أُضْحِيَّتِكَ عِنْدَ اللهِ عَزّ وَجَلّ

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে কুরবানীর দিবসে ঈদ (পালনের) আদেশ করা হয়েছে, যা আল্লাহ এ উম্মতের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এক সাহাবী আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার কাছে শুধু একটি মানীহা থাকে (অর্থাৎ যা শুধু দুধপানের জন্য কাউকে দেওয়া হয়েছে) আমি কি তা কুরবানী করব? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, তবে তুমি চুল, নখ ও মোঁচ কাটবে এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এটাই আল্লাহর দরবারে তোমার পূর্ণ কুরবানী বলে গণ্য হবে। —সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৩৬৫

এই হাদীসে যেহেতু কুরবানীর দিন চুল-নখ কাটার কথা আছে তাহলে এর আগে না কাটার দিকে ইঙ্গিত বুঝা যায়।

ওলীদ বিন মুসলিম বলেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আজলানকে যিলহজ্বের দশকে চুল কাটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন, আমাকে নাফে রাহ. বলেছেন—

أَنّ ابْنَ عُمَرَ، مَرّ بِامْرَأَةٍ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِ ابْنِهَا فِي أَيّامِ الْعَشْرِ فَقَالَ: لَوْ أَخّرْتِيهِ إِلَى يَوْمِ النّحْرِ كَانَ أَحْسَنَ

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. এক নারীর নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। মহিলাটি যিলহজ্বের দশকের ভেতর তার সন্তানের চুল কেটে দিচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, যদি ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে তবে বড় ভালো হত। —মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ৭৫২০

এ সম্পর্কে আরেকটি বর্ণনা হল—

قال مسدد وحدثنا المعتمر بن سليمان التيمي سمعت أبي يقول: كان ابن سيرين يكره إذا دخل العشر أن يأخذ الرجل من شعره، حتى يكره أن يحلق الصبيان في العشر

মুতামির ইবনে সুলাইমান আততাইমী  বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, ইবনে সীরীন রাহ. যিলহজ্বের দশকে চুল কাটা অপছন্দ করতেন। এমনকি এই দশকে ছোট বাচ্চাদের মাথা মুণ্ডন করাকেও অপছন্দ করতেন। —আলমুহাল্লা, ইবনে হাযম ৬/২৮

এসব দলীলের কারণে কারও কারও  মতে সকলের জন্যই যিলহজ্বে প্রথম দশকে নখ, গোঁফ ও চুল না-কাটা উত্তম। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই, এ বিধানটি কুরবানীদাতার জন্য তাকিদপূর্ণ।

যিলহজ্বের প্রথম নয় দিন রোযা রাখি

অধিকাংশ ফকীহগণ এই নয় দিন রোযা রাখা উত্তম বলেছেন। কারও পক্ষে সম্ভব হলে সে পুরো নয় দিনই রোযা রাখল। কারণ, যিলহজ্বের পুরো দশকের আমলই আল্লাহর কাছে প্রিয়। এ দশককে আমলে প্রাণবন্ত রাখার জন্য রোযার বিকল্প কোনো আমল নেই। কারণ, রোযা আল্লাহর কাছে অত্যধিক প্রিয় আমল। সুতরাং আমাদের যাদের পক্ষে সম্ভব যিলহজ্বের প্রথম দশক তথা নয় যিলহজ্ব পর্যন্ত রোযা রাখতে চেষ্টা করি। হাদীস শরীফে এসেছে—

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجّةِ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিলহজ্বের নয়টি দিবস রোযা রাখতেন। —সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৩৩৪; সুনানে কু
8
Know The World / হাদীস নং ১৬
« Last post by ashraful.diss on June 10, 2024, 01:46:03 AM »
হাদীস নং ১৬

মুত্তাকী বা পরহেযগার ব্যক্তিরা সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করে। এটাই তাকওয়ার দাবি। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ

অর্থঃ যেখানেই থাকো, আল্লাহকে ভয় করো। (তিরমিযি, ১৯৮৭;মুসনাদু আহমাদ,২১৩৫৪)

বন্ধুরা, আপনারাও সবসময় আল্লাহকে ভয় করবেন। তবেই আপনারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে পারবেন।

চলবে.....................................................................
9

পুরুষ কর্তৃক সাজ-সজ্জা গ্রহণ

বিউটি পার্লারে সাজানোর কাজে নিয়োজিত কর্মচারী যদি পুরুষ হয় অথবা সেখানে যদি পুরুষদের অবাধে আনা-গোনা থাকে তাহলে সেখানে মহিলাদের সাজ গ্রহণ সম্পূর্ণ হারাম। তাই বিউটি পার্লারে গিয়ে অন্ততঃ মুসলিম মহিলারা এরুপ নির্লজ্জ ভাবে নামাহরাম (যাদের সাথে পর্দা করা ফরজ) পুরুষ কর্তৃক সুসজ্জিত হতে পারেনা। বরং ঘরের মধ্যেই যথাসাধ্য নিজেকে অলংকৃত ও সুসজ্জিত করা চাই। আর এতেই তাদের জন্য দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ রয়েছে।

চলবে...................................................
10
Know The World / হাদীস নং ১৫
« Last post by ashraful.diss on June 07, 2024, 10:01:19 PM »
হাদীস নং ১৫

আজকে আমরা আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস শিখব।  নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

 التَّقْوَى هَا هُنَا

অর্থঃ তাকওয়া এখানে। (এই বলে তিনি ৩ বার বুকের দিকে নির্দেশ করলেন) (মুসলিম,২৫৬৪)

অর্থাৎ, তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় লম্বা জুব্বা বা সুন্দর টুপিতে থাকে না। তাকওয়া থাকে মানুষের অন্তরে। যার অন্তরে তাকওয়া আছে, কেবল তাকেই মুত্তাকী বা পরহেযগার বলা হয়।

চলবে........................................
Pages: [1] 2 3 ... 10